Monday, May 11, 2020

১৭ রোজা : বদর প্রান্তরে ইসলামের বিজয়ের প্রথম সূর্যোদয়

প্রতিকি ছবি

১৭ রমজান। মাহে রমজানের অপরাপর মোবারক দিনের ঊর্ধ্বে ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি অবিস্মরণীয় বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। রমজানের রোজা ফরজ হয়েছে হিজরতের দ্বিতীয় বছর থেকে। অর্থাৎ দ্বিতীয় হিজরি সনে। আর সে বছরই রমজান মাসের ১৭ তারিখে সংঘটিত হয়েছে ইসলামের প্রথম সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী যুদ্ধ, ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষার প্রথম-রক্তঝরা মহাসংপ্রাম : জঙ্গে বদর, গজওয়ায়ে বদর বা বদরের যুদ্ধ।

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) নবুয়ত প্রাপ্তির পর দীর্ঘ ১৩ বছর অতিবাহিত করেন মক্কা মোকাররমায়। এরপর তিনি আল্লাহর হুকুমে মক্কায় বসবাসরত সাহাবিদের নিয়ে পর্যায়ক্রমে মদিনায় হিজরত করেন। হিজরতের দ্বিতীয় বছরেই নবী (সা.)-এর নেতৃত্বে গঠিত মদিনা রাষ্ট্রটি মক্কার কাফির শক্তির পক্ষ থেকে হুমকির মুখোমুখি হয়।

সিরিয়া থেকে ফেরার পথে মক্কার কাফিরদের একটি বাণিজ্য কাফেলা মুসলিম শক্তির প্রতিরোধের মুখে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মক্কা থেকে এক হাজার কাফির সেনার একটি সশস্ত্র দল মদিনা থেকে ৮০ মাইল দূরে অবস্থিত `বদর` ময়দানে এসে যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করে। এ অবস্থায় মাত্র ৩১৩ জন সাহাবিকে নিয়ে বদর ময়দানের আরেক পাশে উপস্থিত হন শান্তি ও মানবতার নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)। ইমানি শক্তিতে বলীয়ান স্বল্প সংখ্যক সাহাবিদের নিয়ে কাফিরদের বিশাল বহরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা সেদিন মুমিন যোদ্ধাদের সহায়তা করেছিলেন। কুরআন মাজিদে বর্ণিত হয়েছে ‘আল্লাহ বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন। অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল। আল্লাহকে ভয় কর, কৃতজ্ঞ হও (আলে ইমরান: ১২২)। আর বিজয়ের জন্য আল্লাহ তায়ালার শর্ত হচ্ছে, ‘তোমরা হতোদ্যম হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা সত্যিকার অর্থে মুমিন হয়ে থাক।’ (সূরা আলে ইমরান-৩/১৩৯) আল্লাহর রাসূল (সা.) এ দুটো শর্ত পূরণ করেই রমজান মাসে বদর ও মক্কা বিজয় করেছিলেন।
ধর্মগ্রন্থসমূহে বর্ণিত আছে, দ্বিতীয় হিজরীর শা`বান মাসে আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জনের একটি বাণিজ্য কাফেলা সিরিয়া থেকে ফেরার পথে আশঙ্কা পোষণ করল যে, মদিনার মুসলমানগণ তাদের ওপর আক্রমণ করতে পারে। কারণ দুটো- প্রথমত প্রতিশোধ গ্রহণ, দ্বিতীয়ত তাদের সঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার আশরাফী মূল্যের ধন-সম্পদ লুট করে নেয়া। এমন আশঙ্কা থেকে আবু সুফিয়ান তার কাফেলার একজনকে তাদের সাহায্যের জন্য মক্কায় পাঠিয়ে দেয়। মক্কার কাফিরগণ তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ভেবে আবু সুফিয়ানের ডাকে সাড়া দিয়ে কুরাইশ সর্দারদের নেতৃত্বে ১ হাজার সশস্ত্র যোদ্ধার বিরাট বাহিনী নিয়ে মদিনা আক্রমণে রওনা
করে। রাসূল (সা.) যথাসময়ে ব্যাপারটি জানতে পেরে কুরাইশদের মোকাবেলায় নিজেদের ও ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষায় সব মুসলমানকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বললেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে, প্রথমত মুসলমানদের জীবন-মরণ ও ইসলামের অস্তিত্বের লড়াই। এ লড়াইয়ে হেরে গেলে ইসলামের আওয়াজ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে আর মুসলমানের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। রাসূল (সা.) আনসার ও মুহাজির সবাইকে ডাকলেন এবং বিষয়টি খোলামেলা সবার সঙ্গে আলাপ করলেন, কাফিরদের অবস্থানও বর্ণনা করলেন। কাফিরদের বাণিজ্য কাফেলা ছিল মদিনার উত্তর প্রান্তে আর দক্ষিণ দিকে ছিল কুরাইশ সৈন্য দল। রাসূল (সা.) আরো বললেন যে, আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা করছেন, ‘এর যে কোনো একটি তোমরা লাভ করতে পারবে।’ (সূরা আনফাল-৮/৭) বলো এখন তোমরা কোনটি চাও? সাহাবাদের মধ্যে ভিন্ন মতামত আসলে রাসূল (সা.) পুনরায় একই প্রশ্ন করলে হযরত মিকদাদ বিন আমর (রা) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) আল্লাহ আপনাকে যে দিকে নির্দেশ দেন সে দিকেই চলুন।





শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: