চাঁদপুর সদর উপজেলার ২ নং কল্যাণপুর ইউনিয়নের জাকের পার্টির নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারক দিলাজিদ চৌধুরি জান্টু নিজেকে পল্লী চিকিৎসক দাবি করে চায়ের দোকানে বসে যৌন উত্তেজক সিরাপ সহ বিভিন্ন ট্যাবলেট বিক্রি করেছে। কল্যাণপুরের অসহায় গ্রাম্য মানুষদের ধোকা দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে ঔষধ বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কল্যাণপুর ইউনিয়নের রংয়ের গাও গ্রামের পতাই খান বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার পাশে জাকের পার্টির অফিস বসিয়ে পাশে চায়ের দোকান দিয়ে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছে।
এলাকার অপ্রাপ্ত বয়স্ক যুবক ও কিশোরদের কাছে এই নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ট্যাবলেট বিক্রি করে এলাকা ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে কল্যাণপুর রংয়ের গাও গ্রামে গিয়ে দেখা যায় প্রতারক জান্টু নিজেকে জাকের পার্টির জেলার প্রচার সম্পাদক পরিচয় দিয়ে চায়ের দোকান বসিয়ে এর অন্তরালে বিভিন্ন ঔষধ বিক্রি করছে। নিজেকে পল্লী চিকিৎসক পরিচয় দিলেও কোন ঔষধের নাম ও কোন রোগের কোন ওষুধ তা ঠিকমত বলতে পারেনি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, রংয়ের গাও গ্রামের পাতাই খান বাড়ির মৃত ফয়েজ উদ্দিন খানের ছেলে প্রতারক জান্টু নিজেকে চৌধুরী পরিচয় দিয়ে তার বসত ঘরের ভিতরে একটি কক্ষে জাকের পার্টির অফিস দিয়ে সেখানে অনৈতিক কার্যকলাপ সহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। এছাড়া চায়ের দোকানের ভিতরে যৌন উত্তেজক সিরাপ সহ ট্যাবলেট বিক্রি করে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংস করে দিচ্ছে। তার চায়ের দোকানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নিষিদ্ধ ঘোষিত সিরাপ সহ মাদক বিক্রি করে আসছে।
এছাড়া গভীর রাতে বিভিন্ন এলাকার যুবকরা তার ঘরে এসে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে। এলাকার সকল অপকর্মের হোতা দিলাজিদ চৌধুরি জান্টু চৌধুরী।
এ বিষয়ে জান্টু চৌধুরী জানান, চায়ের দোকানে ঔষধ বিক্রি অনিয়ম তা জেনেও মানুষের প্রয়োজনে বিক্রি করছি। জাকের পার্টির সাথে জড়িত থাকায় কিছু কোম্পানির সিরাপ এনে বিক্রি করা হচ্ছে। ঔষধের নাম বলতে না পারলেও মানুষের রোগ অনুযায়ী চাঁদপুর থেকে সিরাপ এনে তাদের সেবা দিচ্ছি। ইউনিয়ন পর্যায়ে জাকের পার্টির সকল কার্যক্রম আমার এখানেই পরিচালনা হয়। যাদেরকে আমি ঘরে জায়গা দেইনি তারাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।
এদিকে এই ভন্ড প্রতারক জাকের পার্টির নেতা পরিচয় দেওয়া জান্টু চৌধুরী সকল অপকর্ম এক এক করে উন্মোচিত হচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই জান্টুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করলে এই এলাকা যুবসমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
সূত্র - ফোকাস মোহনা



0 coment rios: